মৎস্য বর্জ্য থেকে আয়: ফিশ বাইপ্রোডাক্টের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

মৎস্য বর্জ্য বর্তমানে শুধু ফেলে দেওয়ার উপকরণ নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাছের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে বিভিন্ন ফিশ প্রোডাক্ট উৎপাদন করে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
ছবি
বাংলাদেশে মৎস্য খাতের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের গুরুত্ব বাড়ছে। সঠিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

পেইজ সূচিপত্রঃ মৎস্য বর্জ্য থেকে আয়: ফিশ বাইপ্রোডাক্টের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

মৎস্য বর্জ্য থেকে আয়: ফিশ বাইপ্রোডাক্টের অর্থনৈতিক ধারণা

মাছের মাংসল অংশ বাদে মাছের আঁইশ, নাড়িভুঁড়ি, পাখনা, পটকা, ফুলকা, চিংড়ি মাছের মাথা ও খোলস বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রক্রিজাতকরণ কারখানায় চিংড়ির মাথা, মাছের মাথা, লেজ, আঁইশ, নাড়িভুঁড়ি, চর্বি ইত্যাদি বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে হয়। এসব বর্জ্যকে মৎস্য বাইপ্রোডাক্ট বা বর্জ্য বা উপজাত বলা হয়। প্রজাতিভেদে একটি মাছের ৪৫ ভাগ মাংসল অংশসহ সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

একটি মাছের মোট দৈহিক ওজনের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হয়। এসব বর্জ্যকে যদি সঠিক উপায়ে বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে মূল্যবান পণ্যে রূপান্তরিত করা যায় তবে মাছের অব্যবহৃত অংশ বর্জ্য হিসেবেই ফেলে না দিয়ে এ থেকে মূল্যবান পণ্য, সার, মাছের তেল, আঠা, জেলাটিন, কোলাজেন ইত্যাদি এসব উপজাত পণ্য থেকে একদিকে যেমন অর্থ উপার্জন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষন রোধ করা সম্ভব হবে।

মাছের ফেলে দেওয়া আঁইশ এর ব্যবহার ও সম্ভাবনা

মাছের আঁইশ মাছের দেহের বাহিরের আবরণ। ইহা ফেলে দেয়া হয়। প্রতিদিন সারা বাংলাদেশে টন টন মাছের আঁইশ উপজাত বা বর্জ্য হিসেবে পাওয়া যায়। আগেকার দিনে বাড়ীতে মাছ কেটে রান্না করা হতো। তবে বর্তমানে মানুষের কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধির ফলে শহর ও গ্রামের অধিকাংশ বাজারেই বিক্রেতারা ক্রেতার মাছ কেটে দেন। পূর্বে মাছ বাজারেও মাছের আঁইশ জমা করে দিন শেষে ফেলে দেওয়া হতো। ফেলে দেওয়া সেই আঁইশই থেকেই তৈরী হচ্ছে ঔষুধ, প্রসাধনী, ফুড সাপ্লিমেন্টসহ নানা ধরণের পণ্য। সাথে সাথে মাছের আঁইশ বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবন অনেক।

২০০৮ সালের দিকে বাংলাদেশ হতে ক্ষুদ্র পরিসরে প্রথম কিছু মাছের আঁইশ রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বাজার হতে মাছের আঁইশ সংগ্রহ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। মাছের আঁইশ প্রধানত জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর প্রভুতি দেশে রপ্তানি করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তর এর মতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে মোট ৩,০২২ টন মাছের আঁইশ রপ্তানি করা হয় যার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

বাজারে মাছ কাটার পর আঁইশ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর শুধু আঁইশ বাছাই ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় । এরপর ২-৩ দিন রোদে শুকানো হয়। রপ্তানির জন্য বাজারে হতে সাধারণত রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি মাছের মাছের আঁইশ বেশি সংগ্রহ করা হয়। বাজার হতে সংগ্রহ করা ভেজা আঁইশের দাম গড়ে প্রতি কেজি ১০-১৫ টাকা। ৩-৪ কেজি ভেজা আইশ শুকানোর পর ১ কেজি শুকনো আইশ পাওয়া যায় যার দাম প্রায় ৯০-১২০ টাকা। বর্তমানে মাছের আইসের যে বহুমুখী ব্যবহার প্রচলিত আছে তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
  • মাছের আঁইশ থেকে কোলাজেন তৈরী: মাছের আঁইশে প্রধানত কোলাজেন থাকে। কোলাজেনে খনিজলবণ যেমন- সোডিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • শক্তি উৎপাদন: মাছের আঁশে প্রাপ্ত কোলাজেন (Collagen) ফাইবারে রয়েছে Bio-piezoelectric capacity. ফলে এর উপর যখন বাহ্যিক চাপ বা শক্তি প্রয়োগ করা হয় তখন এর থেকে বৈদ্যুতিক চার্জ উৎপন্ন হয়। চীন ও জাপানে মাছের আঁইশ ব্যবহার করে Bio-piezoelectric nanogenerator তৈরি করা হয়। Nanogenerator দিয়ে রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া যায়। এছাড়া ঘরোয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনেও Bio-piezoelectric nanogenerator ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • ওষুধ কারখানায়: মাছের আঁইশে Glycine, Proline, Hydroxy-proline নামক অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। এ কারনে মাছের আঁইশের পাউডার বিভিন্ন দেশে স্যুপের সাথে পুষ্টি প্রদানকারী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কৃত্রিম কর্ণিয়া ও কৃত্রিম হাড় তৈরিতে মাছের আঁইশ ব্যবহৃত হয়। অস্টিওআর্থারাইটিস রোগের প্রতিকারক হিসেবেও মাছের আইঁশ ব্যবহার করা হয়।
  • কসমেটিক্স বা প্রসাধনী তৈরিতে: মাছের আঁইশে Guanine যৌগ থাকে যার কারণে মাছের আঁইশ চকচকে দেখায়। এই Guanine যৌগ প্রসাধনী শিল্পে বিশেষ করে লিপস্টিক, মেকআপ, ব্লাশ ও নেইল পলিশ তৈরতে ব্যবহৃত হয়। এর ব্যবহারের ফলে এই ধরণের প্রসাধনীর উজ্জ্বল ভাব ও স্থায়ীত্ব বজায় থাকে।
  • পরিবেশ দূষণ রোধে: মাছের আঁইশের জৈব-শোষণ ক্ষমতা রয়েছে যা পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমনঃ কপার, সীসা ইত্যাদির দূষণ রোধ করতে পারে। এজন্য পানির দূষণ রোধে মাছের আঁইশ থেকে তৈরি পাউডার খুবই কার্যকরী, পরিবেশবান্ধব ও অর্থসাশ্রয়ী উপাদান হিসেবে বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় মাছের চামড়ার ব্যবহার

মাছ খাওয়ার সময় অনেকেই মাছের চামড়া বা ত্বক ফেলে দেন। অন্যদিকে মাছ রপ্তানির আগে প্রক্রিয়াজাতকরণ করার সময়ও মাছের ত্বক, চামড়া ও কাঁটা ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু এই ফেলে দেয়া উপাদান থেকে জেলাটিন তৈরী করা যায়। জেলাটিন হলো একধরনের প্রোটিন উপাদান, যা মূলত স্তন্যপায়ী প্রাণীর কোলাজেন থেকে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ জেলাটিন শুকুরের চামড়া থেকে এবং প্রায় ৩০ ভাগ জেলাটিন গুরুর গাড় থেকে উৎপাদন করা হয়। পাঙ্গাস মাছ, তেলাপিয়া, শোল, পোয়া ও বাইম মাছের ত্বক থেকে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা জেলাটিন তৈরী করেন। 
মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন জেলি, পুডিং, কেক, আইসক্রিম ইত্যাদি তৈরিতে জেলাটিন ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ঔষুধ শিল্পে ক্যাপসুলের আবরণ তৈরিতে, প্রসাধনী শিল্পে, কাগজ ও ফটোগ্রাফিক ফিল্মে প্রচুর পরিমানে জেলাটিন ব্যবহার করা হয়। হালাল প্রসাধনী এবং ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য তৈরিতে মাছের জিলাটিন ব্যবহার করা হলে মুসলিম সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা পাবে। দেশে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার জেলাটিন আমদানি করা হয়। মাছের ত্বক ব্যবহার করে দেশেই জেলাটিন তৈরী করা হলে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হবে।

মাছের ত্বক প্রক্রিয়াজাত করে স্থিতিস্থাপক এবং আকর্ষণীয় চামড়া তৈরি করা যায়। বিশেষত তেলাপিয়া ও ক্যাটফিস জাতীয় মাছের ত্বকের ব্যবহার করে চামড়া তৈরী করা হয়।  মাছের ত্বক হতে উৎপাদিত চামড়া থেকে হ্যান্ডব্যাগ, পার্স, জুতা, অলঙ্কারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস তৈরি করা হচ্ছে। তেলাপিয়া মাছের ত্বকে অসংক্রামক অণুজীব, উচ্চ পরিমাণে কোলাজেন এবং মানব ত্বকের অনুরূপ গঠন  থাকায় পোড়া জখম সারাতে এটি ব্যবহার করা হয়। 

ফিশ বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে মাছের পটকার বাজার

মাছের পটকা হলো গ্যাস বা বাতাসভর্তি একটি বেলুনের মতো অঙ্গ যা মাছের পেটের ভেতরে থাকে। পটকা পানিতে মাছকে ভাসিয়ে রাখে এবং মাছের শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখে। কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের অন্যান্য স্থানের সামুদ্রিক মাছের পটকা ও পাখনা শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের পটকা রপ্তানি হয়। মাছের পটকা থেকে ৮০% পর্যন্ত কোলাজেন প্রোটিন পাওয়া।
ছবি
  • মাছের পটকা থেকে সার্জিক্যাল সুতা তৈরী করা হয় যা অপারেশনের পর কাটা স্থান সেলাই করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • মাছের পটকা থেকে কোলাজেন এবং শক্তিশালী ও পানি প্রতিরোধী আঠা তৈরি হয় যা প্রসাধনী এবং আঠা শিল্পেও ব্যবহৃত হয়।
  • চাইনিজ স্যুপ ও বিভিন্ন সুস্বাদু উচ্চমূল্যের খাদ্য তৈরীতে ব্যবহার করা হয়।

কার্পজাতীয় মাছের পিজি সংগ্রহ, ব্যবহার ও সম্ভাবনা

মৎস্য হ্যাচারি গুলোতে মাছকে গোনাডোট্রপিন নামক হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা হয়।  মৎস্য হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত গোনাডোট্রপিন নামক হরমোন পাওয়া যায় মাছের পিজি বা পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০-৯০ কেজি পিজি আমদানি করতে হয়। প্রতি কেজি পিজির বাজারমূল্য প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকা।

মাছের পোনার গুণগত মান নির্ভর করে পিজির গুণাগনের উপর। পরিপক্ব বা প্রজননক্ষম মাছ হতে পিজি সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করলে পোনার গুণগত মান ভাল হয়। বছরের যে কোন সময় স্ত্রী বা পুরুষ উভয় প্রকার মাছ থেকেই পিজি সংগ্রহ করা হয়। তবে মাছের প্রজনন মৌসুমে পিজি সংগ্রহ করা ভাল। মাছের মাথার মস্তিষ্কের নিচে পিজি থাকে।

তাজা মাছ, সদ্য মৃত মাছ, বরফ বা কোল্ডস্টোরজে সংরক্ষিত মাছ থেকে পিজি সংগ্রহ করা যায়। আমাদের দেশের রাজধানীসহ প্রায় সকল বাজারেই এখন মাছ কেটে বিক্রি করা হয়। মাছ বাজারের বটিওয়ালাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে পিজি সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত রুই, কাতলা, কালিবাউস, মিরর কার্প, গ্রাস কার্প, মৃগেল, বিগহেড কার্প মাছ হতে পিজি সংগ্রহ করা যেতে পারে।  সংগৃহীত পিজি তাৎক্ষণিকভাবে অথবা সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়। পিজি খুব সতর্কতার সাথে সংগ্রহ করতে হবে এসময় কোনো ভাবেই পিজির গায়ে পানি লাগানো যাবে না। কারণ পিজি পানির সংস্পর্শে আসলে পিজির পচন হয় ফলে গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। সংগৃহিত পিজি অ্যালকোহল বা অ্যাসিটোন দ্রবণে সংরক্ষণ করতে হয়। 

সাধারণত ২০-৩০ সিসি মাপের কাঁচের শিশিতে  অ্যালকোহল বা অ্যাসিটোন দ্রবণে পিজি সংরক্ষণ করা হয়। ১ম বার পিজি রাখার ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর ০১ বার এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর ২য় বার অ্যালকোহল বা অ্যাসিটোন দ্রবণ পরিবর্তন করতে হয়।  অ্যালকোহল বা অ্যাসিটোন দ্রবণ পিজিতে থাকা পানি ও চর্বি শোষণ করে এর পচন রোধ করে। এভাবে   সংরক্ষণ করা পিজি প্রায় ১-২ বছর এবং ‍ ফ্রিজিং করলে ২ থেকে ৩ বছর ব্যবহার করা যায়। অথবা ২-৩ মাস পর  দ্রবণ থেকে পিজি বের করে ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ড্রায়ার ব্যবহার করে শুষ্ককরণ করে কর্কযুক্ত বায়ুরোধী কাচের শিশিতে সংরক্ষণ করা যায়।  

বর্তমানে দেশে ১৪৩ টি সরকারী এবং ১১৯০ টি বেসরকারী  মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার রয়েছে। এসকল খামার থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ৭৩৬.৬৯৬ মে:টন কার্প জাতীয় মাছ, পঙ্গাস, থাইপুটি, বাটা, কৈ, শিং, মাগুর এবং অন্যান্য মাছের রেণু এবং প্রায় ৬৫৫৭১ লক্ষ তেলাপিয়ার জুভেনাইল উৎপাদন করা হয়েছে (মৎস্য অধিদপ্তর, ২০২৫)। এই সকল হ্যাচারীতে ব্যবহৃত পিজি আমদানি করা হয়। তাই দেশে বাণিজ্যিকভাব পিজি সংগ্রহ করা হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কম খরচ মাছের রেণু উৎপাদন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশের চাহিদা মিটিয়ে পিজি রপ্তানী করা সম্ভব হবে।মাছের 

ফিশ বাইপ্রোডাক্টে  হিসাবে পাখনা ও হাড়ের বাণিজ্যিকিকরণ 

আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাছের পাখনা ও হাড় থেকে  উচ্চমূল্যের পণ্য, যেমন মেরিন কোলাজেন, অর্গানিক সার বা বোন মিল, এবং পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ক্রমান্বয়ে এটি একটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠেছে। 
  • মাছের হাড়ের খাদ্য ও সুপ: মাছের হাড় ও মাথা দিয়ে সুস্বাদু সুপ বা স্টক তৈরি করা যায়।
  • ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট: হাড়ের গুঁড়ো ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভালো উৎস্য।
  • ফিশমিল: হাড় শুকিয়ে গুঁড়ো করে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার  হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
  • জেলেটিন ও আঠা: মাছের হাড় থেকে জেলেটিন তৈরি করা হয়, যা প্রসাধনী শিল্পে বিভিন্ন অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, সিরাম ও  সাপ্লিমেন্টে তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। 
  • ঔষধ ও স্বাস্থ্য: আজকাল বয়স ৪০ হলেই  হাড় ও জয়েন্টের নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, ক্যাপসুল তৈরিতে এবং আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় কোলাজেনের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাছের পাখনার সঠিক ব্যবহার

বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আছ পাখনা যে শক্ত হাড় রয়েছে সেই হাড় দিয়ে ঘরোয়া সৌখিন বস্তু তৈরি করা হয় যা দেখতে সুন্দরও ইউনিক লাগে। এবং পার্টনার কিছু অংশ বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয়। অনেক সময় আমরা মাছের পাখনার নরম কাটার ব্যবহার না জেনে ফেলে দেই কিন্তু পাখনার এই নরম কাটা থেকে স্যুপের এই কাটা থেকে মূল্যবান সুপ তৈরি হয়। এভাবে মাছের পাখনা থেকে মূল্যবান সুপ তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়।
এছাড়াও মাছের পাখনা ও হাড় গুঁড়ো করে বোন মিল বা হাড়ের গুঁড়ো তৈরি করা হয় যা কৃষিতে জৈব সার হিসেবে সার ব্যবহার করা হয়। এতে এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে যা গাছের শিকড় মজবুত করতে এবং ফুল ও ফলন বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। এই গুড়া পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্ব বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছের পাখনা ও হাড়ের গুঁড়ো পোল্ট্রি, মাছের খামার ও গবাদি পশুর খাবারে উচ্চমাত্রার প্রোটিন সাপ্লিমেন্টও খনিজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মৎস্য বর্জ্য হিসাবে নাড়িভূড়ির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

মাছের নাড়িভুঁড়ি  থেকে  মাছের খাবার, উচ্চমানের জৈব সার ও নিষ্কাশিত তেল তৈরী করা হয় যা বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের বর্জ্য পচিয়ে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সমৃদ্ধ তরল বা গুঁড়ো সার তৈরি করা যা কৃষিজমি ও বাগানের জন্য খুব ভাল। সাবান তৈরি, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ (ট্যানারি) এবং মাছের খাদ্য তৈরিতে নাড়িভুঁড়ি থেকে বের করা তেল ব্যবহার করা হয়।   
মৎস্য বর্জ্য থেকে আয় করা যায় এমন উল্লেখযোগ্য কিছু পণ্যের পরিচিতি
  • মাছের তেল (Fish Oil): মাছের  তেল মাছের নাড়িভূড়ি ও যকৃৎ থেকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাতকরণ করে চাপ দিয়ে নিষ্কাশন করা হয়। মাছের তেলে প্রচুর পরিমাণ উপকারী ফ্যাটি এসিড যেমন ওমেগা-৩, ওমেগা-৬, ইকোসাপেন্টাইয়েনিক অ্যাসিড (ইপিএ) এবং ডোকোসেহেক্সায়েকনিক অ্যাসিড (ডিএইচএ) থাকে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি ও অন্যান্য ভিটামিন থাকে। মাছের তেল হৃদরোগের ওষুধ এবং বিভিন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল তৈরিতে ব্যবহৃত করা হয়। মাছের তেল সরাসরি খাওয়া করা যায়। এতে থাকা উপকারী ফ্যাটি এসিড ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, হৃদরোগীদের উপকার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
  • মাছের গুড়া বা ফিশ মিল (Fish Meal): মাছের বর্জ্য ও কম দামি ছোট মাছ শুকিয়ে ও গুঁড়ো করে ফিস মিল বা মাছের গুড়া তৈরি করা হয়। এত প্রায় ৪০-৪৫% প্রোটিন থাকে। তাই হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু এবং মাছের খাবারে প্রোটিনের চাহিদা পূরনে এটি খুবই কার্যকর। অর্থাৎ ফিস মিল  হলো অত্যন্ত উচ্চ পুষ্টিমান ও প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক সুষম খাদ্য। বর্তমানে মাছ, হাঁস-মুরগি এবং গবাদিপশুর খাদ্য উপাদান হিসেবে  ফিসমিল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 
  • কোলাজেন (Gelatin and Collagen): মাছের আঁইশ, চামড়া ও হাড় থেকে উচ্চমানের জিলাটিন ও কোলাজেন পাওয়া যায়।  কোলাজেন হলো এক ধরণের প্রোটিন। মাছের আঁইশে প্রধানত কোলাজেন থাকে। কোলাজেনে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ থাকে যেমন- সোডিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। মাছের প্রক্রিয়াজাতকরণ বর্জ্যের প্রায় ৩০% হলো প্রোটিন কোলাজেন। কোলাজেনে তুলনামূলকভাবে উচ্চ পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড যেমন- গ্লাইসিন, প্রোলিন ও হাইড্রোক্সপ্রোলিন ইত্যাদি থাকে যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে প্রমানিত। ঔষুধ শিল্পে, স্বাস্থ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ শিল্পে কোলাজেন ব্যবহার করা হয়। 
  • জৈব সার (Fish Fertilizer): মাছের বর্জ্য বা নাড়িভূড়ি, পাখনা, লেজ পঁচিয়ে তরল সার তৈরী করা হয় অথবা মাছের বর্জ্য শুকিয়ে গুঁড়ো করে সার তৈরি করা হয়। মাছের বর্জ্য হতে তৈরী সার নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ হয় যা গাছের পুষ্টি পূরণ করে ফসলের ফলন বাড়াতে খুব কার্যকরী। 
  • ফিশ সাইলেজ (Fish Silage): মৎস্য বর্জ্য বা  সম্পূর্ণ মাছকে প্রাকৃতিক এনজাইম এবং জৈব অ্যাসিড দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বা ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে তরল বা পেস্টের মতো সংরক্ষণ করার পর যে তরল সার তৈরী হয় তাকে ফিশ সাইলেজ বলে। এতে প্রচুর পরিমাণে সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান থাকে। প্রাণীর খাদ্য,  মাছের খাদ্য ও সার হিসেবে ফিস সাইলেজ ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশের মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বর্তমান অবস্থা

মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় এবং শহর অঞ্চলের মাছের বাজারে তৈরি হওয়া মাছের বর্জ্য যেমন- মাছের আঁইশ, নাড়িভুঁড়ি পাখনা ও লেজ ফিস ফিড তৈরির জন্য স্থানীয়ভাবে বিক্রয় করা হয়। আঁইশ, পাখনা, পটকা ইত্যাদি বর্জ্য পরিস্কার করে শুকিয়ে চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে রপ্তানি করা হয়। কিছু অংশ সরাসরি ফিস মিল ও পোলট্রি মিল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গ্রামের কাঁচা বাজারে ও বাসাবাড়িতে থেকে মাছের বর্জ্য সংগ্রহ না করে যেখানে সেখানে ফেলে দেয়া হয় এতে পরিবেশ দূষিত হয়।
ছবি
বাংলাদেশ মাছের বর্জ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণে অনেক পিছিয়ে আছে মাছ ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট এর বর্জ্য কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের দেশে মাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ জনবলের অভাবে আছে। মাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং সরকারি উদ্যোগ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই।

বাংলাদেশে মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৯০৬১৯ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানী করে বাংলাদেশ প্রায় ৬১৪৪.৯১ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের দৈনিক মাছ খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন একজন মানুষ প্রায় ৬৭.৮০ গ্রাম মাছ গ্রহণ করেন। 

প্রতিদিন সারা দেশে প্রচুর পরিমাণে মাছের বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পূর্ণ পণ্য উৎপাদন করে মাছের বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে অন্যদিকে পরিবেশের দূষণও কমবে।
তাই আমাদেরও এই খাতকে অবহেলা বা ছোট করে না দেখে একটি শিল্পখাত হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে। বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিস ফাউন্ডেশন এর একটি জরিপে বলা হয়েছে বাংলাদেশে প্রতিবছর মাছের যে পরিমাণ বর্জ্য পাওয়া যায় তার ৩ ভাগের ১ ভাগও যদি সংরক্ষণ করার মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা যায় তাহলে ৮০০০.০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

মৎস্য বর্জ্য থেকে আয় করার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা। দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে মাছের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প কারখানা স্থাপন করা সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা বাসাবাড়ি ও কাঁচাবাজারগুলো থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে কাজ কর।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্নঃ মৎস্য বর্জ্য বা ফিশ বাইপ্রোডাক্ট বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ মাছের প্রধান মাংসল অংশ বাদে ফেলে দেওয়া অংশ যেমন আঁইশ, নাড়িভুঁড়ি, পাখনা, পটকা, ফুলকা, চর্বি, চামড়া এবং চিংড়ির মাথা ও খোলস ইত্যাদিকে মৎস্য বর্জ্য বা ফিশ বাইপ্রোডাক্ট বা উপজাত বলা হয়। প্রজাতিভেদে একটি মাছের মোট ওজনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অংশই বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, যা বর্তমানে অত্যন্ত মূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদ।

প্রশ্নঃ ফেলে দেওয়া মাছের আঁইশ কোন কোন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং এর বাণিজ্যিক মূল্য কেমন?
উত্তরঃ বাংলাদেশ থেকে মাছের আঁইশ মূলত চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হচ্ছে। ২০২২/২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের ৩,০২২ টন মাছের আঁইশ রপ্তানি করা হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি ভেজা আঁইশের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা হলেও ৩ থেকে ৪ কেজি ভেজা আঁইশ শুকানোর পর প্রাপ্ত ১ কেজি শুকনো আঁইশের বাজারমূল্য প্রায় ১২০ টাকা।

প্রশ্নঃ মাছের চামড়া এবং পটকা থেকে কী কী মূল্যবান উপাদান তৈরি করা সম্ভব?
উত্তরঃ মাছের চামড়া বা ত্বক থেকে উচ্চমানের জিলাটিন ও কোলাজেন তৈরি করা যায়, যা হালাল প্রসাধনী, ওষুধ শিল্পের ক্যাপসুল এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া তেলাপিয়া ও ক্যাটফিসের চামড়া দিয়ে জুতো, পার্স ও হ্যান্ডব্যাগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, মাছের পটকা থেকে সার্জিক্যাল সুতা (অপারেশনের সেলাইয়ের জন্য), শক্তিশালী পানি প্রতিরোধী আঠা এবং চাইনিজ স্যুপের মতো বিলাসবহুল খাদ্য উপাদান তৈরি করা হয়।

প্রশ্নঃ মাছের পিজি বা পিটুইটারি গ্ল্যান্ড কী এবং এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব কতখানি?
উত্তরঃ মাছের পিজি বা পিটুইটারি গ্ল্যান্ড হলো মাছের মস্তিষ্কের নিচে থাকা একটি গ্রন্থি, যা থেকে কৃত্রিম প্রজননের জন্য অত্যন্ত জরুরি গোনাডোট্রপিন হরমোন পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মাছের পোনা বা রেণু উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কেজি পিজি আমদানি করতে হয়, যার প্রতি কেজির বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। দেশীয় বাজার থেকে বটিওয়ালাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে এই পিজি সংগ্রহ করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রপ্তানি করা সম্ভব।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ কীভাবে মৎস্য বর্জ্যকে একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে পারে?
উত্তরঃ বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিস ফাউন্ডেশনের মতে, দেশে উৎপাদিত মৎস্য বর্জ্যের মাত্র ৩ ভাগের ১ ভাগও যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রপ্তানি করা যায়, তবে বছরে প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এই খাতকে শিল্পে রূপান্তর করতে হলে দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা প্রদান, কাঁচাবাজার ও বাসাবাড়ি থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সংগ্রহ এবং সরকারি বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মতামতঃ মৎস্য বর্জ্য থেকে আয়: ফিশ বাইপ্রোডাক্টের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

আমার দৃষ্টিতে, মৎস্য বর্জ্যকে কেবল 'আবর্জনা' মনে করার সনাতন মানসিকতা পরিবর্তনের এখনই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশ যেখানে মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি, সেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার টন বাইপ্রোডাক্ট অবহেলায় নষ্ট হওয়া এবং পরিবেশ দূষিত করা চরম অপচয়। পিজি (PG) বা জিলাটিনের মতো উচ্চমূল্যের আমদানি-নির্ভর উপাদানগুলো যদি আমরা স্থানীয় বাজার থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংগ্রহ করতে পারি, তবে দেশের মৎস্য হ্যাচারি ও ওষুধ শিল্পে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রান্তিক মাছ বিক্রেতাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে মৎস্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতটি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মতোই আরেকটি অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে Smartclicker24-এর নীতিমালা অনুযায়ী মন্তব্য করুন। সকল মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়

comment url