ঘরে বসে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
আজকাল যারা ঘরে বসে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান, এই
আর্টিকেলটি তাদের জন্য উপযোগী করে অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি
অ্যাপস ইনস্টল করে কি কি ধরনের জিডি সহজেই করতে পারবেন তা জানতে বিস্তারিত
পড়ুন।
বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়নের ফলে আপনি এখন ঘরে বসেই একটি স্মার্টফোন বা
কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে জিডি করতে পারছেন। আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত
থাকছে ধাপে ধাপে অনলাইনে জিডি করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।
পেইজ সূচিপত্রঃ ঘরে বসে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
- অনলাইনে জিডি করার জন্য প্রাথমিক ধারনা
- বর্তমানে জিডি করতে কি কি তথ্যের প্রয়োজন
- অনলাইনে জিডি করার জন্য কিভাবে শুরু করবেন
- মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
- আবেদন পরবর্তী অবস্থা চেক করবেন কীভাবে
- অনলাইন জিডির কপি ডাউনলোড ও ব্যবহার
- কোন কোন বিষয়ে অনলাইনে জিডি করা যায়
- অনলাইন জিডি ও সাধারণ জিডির মধ্যে পার্থক্য
- জিডি করার সময় সাধারণ ভুল এবং সতর্কতা
- অনলাইন জিডির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা
- FAQ অনলাইনে জিডি করা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
- নিজস্ব মতামতঃ অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
অনলাইনে জিডি করার জন্য প্রাথমিক ধারনা
ঘরে বসে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম জানার জন্য জিডি কি এবং কেন করার
প্রয়োজন হয় বিষয়টি জানা টা একটু জরুরী। ইংরেজিতে GD বা জেনারেল ডায়েরি
যা বাংলাতে সাধারণ ডায়েরি সংক্ষেপে জিডি বলা হয়। এটি এমন একটি আইনি নথি,
যা কোনো একটি অপরাধ হতে পারে এমন ধরনের আশঙ্কা, কোনো কিছু হারানো বা
প্রাপ্তি সম্পর্কে থানাকে বা পুলিশকে অবহিত করার জন্য করা হয়ে থাকে। আগে
মানুষ যখন কোন কিছু হারালে থানায় গিয়ে জিডি করত এখন ঘরে বসে অনলাইনের
মাধ্যমে করাই হলো অনলাইন জিডি।
সাধারণত অধর্তব্য (Non cognizable) অপরাধের ক্ষেত্রে জিডি করা হয়।
যেমন মোবাইল হারানো, সার্টিফিকেট হারানো, অথবা এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা
জিনিস যা দিয়ে পরবর্তীতে কোন অপরাধমূলক কার্যক্রম হতে পারে। আবার কেউ কাউকে
বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করলে ভবিষ্যতে ধর্তব্য অপরাধ সংগঠিত হতে পারে এমন
আশঙ্কা থেকে জিডি করা হয়। অনলাইনের মাধ্যমে পুলিশকে ইনফর্ম করে নিজের কাছে একটি
ডকুমেন্ট রাখার জন্যই অনলাইন জিডির সৃষ্টি, এটি সময় বাঁচায় এবং হয়রানি
মুক্ত সেবা নিশ্চিত করে।
বর্তমানে জিডি করতে কি কি তথ্যের প্রয়োজন
অনলাইনে জিডি করতে একটি আবেদন করতে হয় আর এই আবেদনকে সফল করার জন্য আপনার
এমন কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য প্রয়োজন হবে যেগুলো ছাড়া আপনি অনলাইনে জিডি করতে
পারবেন না।
- আবেদনকারীর সচল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর।
- আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা এবং লাইভ ছবির ক্যামেরা ফোন।
- হারিয়ে যাওয়া জিনিসের তথ্যাদি যেমন মোবাইল এর ক্ষেত্রে আইএমইআই নম্বর, সার্টিফিকেট এর ক্ষেত্রে একটি ফটোকপি অথবা রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ডের নাম, পাশের সাল, পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট এর নাম্বার ইত্যাদি।
- হারিয়ে যাওয়া জিনিসের ক্ষেত্রে যত বেশি ইনফরমেশন অ্যাড করা যাবে আবেদনকারীর পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তত ভালো হবে।
অনলাইনে জিডি করার জন্য কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
অনলাইনে জিডি করার মূলত দুটি মাধ্যম রয়েছে একটি হলো বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইট https://gd.police.gov.bd এবং অন্যটি হলো Online GD নামের মোবাইল অ্যাপ
যা গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটের ক্লিক করলে আপনাকে শুধুমাত্র
Online GD অ্যাপস ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দিবে এজন্য সরাসরি প্লেস্টোরে ঢুকে
অ্যাপসটি ডাউনলোড করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অ্যাপসটি ডাউনলোড করার পরে আপনাকে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া
সম্পন্ন করতে হবে। আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বর দেওয়ার পরে আপনার মোবাইল নম্বর
যাচাইয়ের জন্য ওটিপি যাবে। উক্ত ওটিপি কোডটি যথাস্থানে বসিয়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে
এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। এতে আপনার মোবাইল নম্বরটি ইউজার নেম হিসাবে ও একটি
পাসওয়ার্ড দিতে হয়, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন হবে। এজন্য এটি ভালোভাবে মনে রাখবেন
অথবা প্রয়োজনে কোথাও লিখে রাখবেন।
ওটিপি দিয়ে মোবাইল নাম্বার যাচাই এরপরে আপনাকে ফেস ভেরিফিকেশন করতে বলবে। ফেস
ভেরিফিকেশন এর জন্য আপনার ফেসের সামনে যথাযথ আলোর ব্যবস্থা রেখে ফেস ভেরিফিকেশন
করবেন। এটা শুধুমাত্র প্রথমবার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হবে পরবর্তীতে
শুধু মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সরাসরি অ্যাপস এর মধ্যে ঢুকতে পারবেন।
ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে লগইন করে আবেদন করা শুরু করে দিন।
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
অনলাইনে জিডি করার জন্য সাতটি ধাপে রেজিস্ট্রেশন করার পরে নিম্নোক্ত ধাপগুলো
অনুসরণ করে সহজে অনলাইনে জিডি করা যায়।
- অনলাইন জিডি অ্যাপসটির মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা সম্পূর্ণ হলে লগইন করার জন্য আপনার মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ভিতরে প্রবেশ করুন।
- আপনি যে বিষয়ে জিডি করতে চান বিষয়টি খুজে বের করুন যেমন হারানো যদি হলে হারানো আর প্রাপ্তি হলে প্রাপ্তি নির্বাচন করে পরবর্তীতে ক্লিক করুন।
- আপনার বসবাসের স্থান যে থানার মধ্যে সেই জেলা এবং থানা নির্বাচন করুন অথবা আপনার কোন কিছু হারানো গেলে যে থানার মধ্যে হারিয়ে গেছে অর্থাৎ ঘটনাস্থল যে থানার ভিতরে সেই থানা নির্বাচন করে ঘটনার তারিখ, সময় এবং স্থান এর নাম লিখে পরবর্তী ধাপে যান।
- যদি কোন ছবি আপলোডের প্রয়োজন হয় তাহলে, আপলোডের অপশন থেকে ছবি বা ডকুমেন্টস আপলোড করুন।
-
বিশেষ করে লাল স্টার চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই আপনাকে ফিলাপ করতে হবে। সেটা না করলে সাবমিট হবে না।
-
অ্যাপস এর চাহিদা মত সবগুলো তথ্য দেওয়া শেষ হলে ভালোমতো চোখ বুলিয়ে দেখেন
কোন কিছু ভুল হয়েছে কিনা! ভুল হলে এডিট অপশন আছে সেখান থেকে এডিট করে পুনরায়
সাবমিট করুন।
- এভাবে সফলভাবে সাবমিট হলে আপনার মোবাইলে একটি ম্যাসেজ আসবে
যেখানে ট্র্যাকিং নাম্বার দেওয়া থাকবে। পরবর্তীতে ব্যবহারের
জন্য ট্র্যাকিং নাম্বারটি ভালোভাবে সংরক্ষণ করুন।
আবেদন পরবর্তী অবস্থা চেক করবেন কীভাবে
অনলাইনে জিডির আবেদন করার পর আপনার আবেদনটি সংশ্লিষ্ট থানার ওসির প্রোফাইলে
পৌঁছাবে। তিনি এটি একটি জিডি নম্বর দিয়ে তদন্তের জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টরক
বা সহকারী সাব ইন্সপেক্টর কে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেবেন। আপনার আবেদনের
বর্তমান অবস্থা বা Tracking Status আপনি অ্যাপ এ লগইন করে যেকোনো সময় দেখতে
পারবেন।
প্রতিটি ধাপ পরিবর্তনের সাথে সাথে আপনার মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে আপডেট জানানো
হবে। হুমকি ধামকি সংক্রান্তে জিডি করলে পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এর
সাথে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন এবং নিজের আশঙ্কার কথা গুরুত্ব সহকারে বিস্তারিত বর্ণনা করুন।
অনলাইন জিডির কপি ডাউনলোড ও ব্যবহার
জিডির আবেদন করার পরে থানার অফিসার ইনচার্জ এর স্বাক্ষরিত ও অনুমোদনের
পরে আপনার কাছে একটি ম্যাসেজ আসবে এই মেসেজে যে ট্রেকিং নাম্বারটা থাকবে এই
ট্র্যাকিং নাম্বার দিয়ে অ্যাপস এর মধ্যে ঢুকে আপনার জিডির কপিটি ডাউনলোড
অপশন থেকে ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দিবেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি
সরকারি ডকুমেন্টস পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হবে।
ডাউনলোড করার পরে এটি আর কখনো কাউকে স্বাক্ষর করার প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র
আবেদনকারীর স্বাক্ষরের স্থানে স্বাক্ষর করতে হবে। বিভিন্ন আইনানুগ প্রক্রিয়াতে
এর মূল্য অনেক বেশি যেমন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, কোন দলিল বা সার্টিফিকেট
হারিয়ে গেলে পরবর্তীতে উঠানোর প্রয়োজনে জিডির কপি অবশ্যই প্রয়োজন হবে। এছাড়াও
কেউ ভয় ভীতি প্রদর্শন করলে পরবর্তীতে মামলা মোকদ্দমায় প্রয়োজন
হবে। তাছাড়াও অধর্তব্য অপরাধের ক্ষেত্রে যেমন কেউ কিল ঘুষি চড়
থাপ্পড় মারলে এসব ক্ষেত্রে আদালতে প্রসিকিংশন দেওয়ার জন্য অবশ্যই জিডি
করতে হয় এবং এই জিডির কপি আদালতে উপস্থাপন প্রয়োজন হয়।
কোন কোন বিষয়ে অনলাইনে জিডি করা যায়
স্টেশন করার পরে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন করার পরে আপনি যখন মোবাইল অ্যাপসের ভিতরে
প্রবেশ করবেন সেখানে দেখতে পাবেন প্রাথমিকভাবে হারানো, পাওয়া এবং অন্যান্য আবেদন
তিনটি শিরোনামে জিডি করার আবেদন করতে হয়। তবে এখানে মানুষ হারিয়ে যাওয়া
সংক্রান্তেই বেশি জিডি করে।
- যানবাহন সংক্রান্তেকোন কিছু হারিয়ে গেলে যেমন মোটরসাইকেল বা বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত কোন যান ইত্যাদি হারিয়ে গেলে জিডি করা যায়।
-
কম্পিউটারের মধ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, নোটপ্যাড, ওমানি, কম্পিউটারের কোন
যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেলেও আপনি জিডি করতে পারবেন।
-
মোবাইল হারিয়ে গেলে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর জানা থাকলে অথবা না জানা
থাকলেও আপনি যদি করতে পারবেন।
-
ডকুমেন্টস সেকশনে যেকোনো ধরনের ডকুমেন্টস যেমন জাতীয় পরিচয় পত্র
শিক্ষার্থীর যেকোনো ধরনের একাডেমিক কাগজপত্র, জন্ম সনদ পাসপোর্ট, যে
কোনো ব্যক্তির আইডি কার্ড সহ বায়না নামা, চুক্তিনামা দলিল,
চেক বই যানবাহনের কাগজপত্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
-
কার্ড সমূহের মধ্যে যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ডেবিট কার্ড হারিয়ে গেলেও
আপনি জিডি করতে পারবেন।
- আপনার গহনা হারিয়ে গেলেও অনলাইনের মাধ্যমে আপনার জিডি করতে পারবেন।
মোবাইল অ্যাপসের ভিতর ড্যাশবোর্ডের শিরোনামে কোন কিছু আপনার হারানো সংক্রান্তে
না মিললে এখানে অন্যান্য সেকশন আছে এখান থেকে যে বিষয়টি হারিয়ে গেছে সে
বিষয়টি উল্লেখ করে আপনি সাধারণ ডায়েরি করতে পারবেন।
অনলাইন জিডি ও সাধারণ জিডির মধ্যে পার্থক্য
আগে থানায় গিয়ে কাগজে কলমে যে জিডির আবেদন করে জিডি করা হতো, তার সাথে অনলাইন
জিডির মূল পার্থক্য হলো স্বচ্ছতা। ম্যানুয়াল জিডিতে অনেক সময় কপি হারানো বা
ট্র্যাকিং করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনলাইনে জিডি করার নিয়ম অনুসরণ করলে আপনি
একটি ডিজিটাল কপি বা কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত সার্টিফিকেট পাবেন। এটি যাচাই করা
সহজ এবং সরকারি সব কাজে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়াও এর জিডির কপি হারিয়ে গেলে আপনি ট্র্যাকিং নাম্বার দিয়ে খুব সহজে
পুনরায় আবার উক্ত জিডির কপি ডাউনলোড করতে পারবেন শুধুমাত্র আবেদনকারী কে
আবেদনকারীর স্থানে একটি স্বাক্ষর করে বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন এতে
করে আপনার থানায় না গিয়ে ঘরে বসেই জিডি করা যায় এবং সময় ও পরিশ্রম কম হয়।
এবং কোন ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় না।
জিডি করার সময় সাধারণ ভুল এবং সতর্কতা
অনেকেই জিডি করার সময় ভুল তথ্য প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে
পারে।জিডি করার সময় অ্যাপস এর ভিতর দেওয়া ফর্মে তথ্যাদি যথাযথভাবে পূরণ করতে
হবে। যদি কোন জিডি আবেদন করার পরও এপ্রুভ না হয় সরাসরি আবেদনকারীর এনআইডি কার্ড
ও একটি সচল মোবাইল নম্বর নিয়ে থানায় যেতে হবে। কিছু কমন ভুল যা মানুষের মধ্যে
লক্ষ্য করা যায় তা হলো-
- আপনার এনআইডি তথ্যের সাথে বর্তমান তথ্যের সম্পূর্ন মিল রাখুন।
- ঘটনার স্থান, সময় ও তারিখ সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।
- ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জিডি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
- হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক IMEI নম্বর ব্যবহার করবেন।
-
ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্র্যান্ডের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করতে
হবে।
-
দলিল বা অন্যান্য ডকুমেন্টস এর ক্ষেত্রে ডকুমেন্টসের নাম্বার যেমন দলিল
নাম্বার ইত্যাদি যথাযথভাবে উল্লেখ করে জিডি করতে হবে।
- ধর্তব্য অপরাধের ক্ষেত্রে জিডি না করে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে।
অনলাইন জিডির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা
অনেকে জিডির করার আগে প্রশ্ন করেন, জিডি করলে কোন সমস্যা হয় কি’না? পরবর্তীতে
ঝামেলায় পড়তে হয় নাকি এর সহজ উত্তর হল। জিডি করা আপনার একটি আইনগত অধিকার
অনলাইনে জিডি করলে এ ধরনের প্রবলেম হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আর এর গোপনীয়তা
এবং নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে বজায় রাখা হয়। এবং একজনের তথ্য আইনগত প্রয়োজন
ছাড়া কখনোই অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।
আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এবং অভিযোগের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ উন্নত
এনক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করে। আপনার এনআইডি এবং ইটস ভেরিফিকেশন ব্যবহারের ফলে
অন্য কেউ আপনার নামে ভুয়া জিডি করতে পারবে না। এটি নাগরিক হিসেবে আপনার আইনি
সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে।
আরও পড়ুনঃ
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
FAQ অনলাইনে জিডি করা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১ঃ অনলাইনে জিডি করতে কি কোনো ফি বা টাকা লাগে?
উত্তরঃ না, অনলাইনে বা সরাসরি থানায় জিডি করতে কোনো প্রকার ফি বা টাকা লাগে
না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা একটি সরকারি সেবা।
প্রশ্ন ২ঃ আমি কি অন্য কারো পক্ষ থেকে জিডি করতে পারি?
উত্তরঃ সাধারণত জিডি আবেদনকারীর নিজের এনআইডি ব্যবহার করাই শ্রেয়। তবে বিশেষ
ক্ষেত্রে (যেমন বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তি) পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে তথ্য প্রদান
করা যেতে পারে, কিন্তু এনআইডি যাচাই বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৩ঃ হারানো মোবাইলের জিডি করতে কি কি লাগে?
উত্তরঃ মোবাইলের মডেল নম্বর, আইএমইআই (IMEI) নম্বর এবং যে সিমটি ব্যবহৃত হচ্ছিল
তার নম্বর প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন ৪ঃ কতক্ষণ সময়ের মধ্যে অনলাইন জিডি অনুমোদিত হয়?
উত্তরঃ সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে আপনার জিডিটি
ভেরিফাই বা অনুমোদন করা হয়।
প্রশ্ন ৫ঃ বিদেশে থেকে কি বাংলাদেশে অনলাইন জিডি করা সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, যদি আপনার কাছে নিবন্ধিত জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি এবং সচল
মোবাইল নম্বর (ওটিপি গ্রহণের জন্য) থাকে, তবে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে
এটি করতে পারবেন।
নিজস্ব মতামতঃ অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে আমাদের পুলিশিং
ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তার অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো এই অনলাইন জিডি। আগে
কোনো জরুরি ডকুমেন্ট বা ফোন হারিয়ে গেলে থানায় যাওয়া মানেই ছিল বাড়তি এক
দুশ্চিন্তা। ডিউটি অফিসারের দেখা পাওয়া থেকে শুরু করে অনেক সময় নানা ধরনের
অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় পড়তে হতো। কিন্তু এখন অনলাইনে জিডি করার নিয়ম এতটাই সহজ
হয়ে গেছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে শুধু সিস্টেম করলেই হয় না, সেটার সঠিক ব্যবহারও আমাদের শিখতে হবে। অনেক সময়
দেখা যায় অনেকে যথাযথ তথ্য না দিয়েই আবেদন করেন, যা পরে পেন্ডিং হয়ে থাকে। আমার
মতে, প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিকের উচিত এই প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্পর্কে অন্যদেরও
সচেতন করা। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ যারা এখনো মনে করেন থানায় না গেলে
জিডি হয় না, তাদের বোঝানো দরকার যে অনলাইনের মাধ্যমে জিডি করে এই ডিজিটাল
কপির গ্রহণযোগ্যতা এখন সব জায়গায়। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষ আমাদের সময়
বাঁচানোর পাশাপাশি পুলিশি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে, যা একটি
আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।


অনুগ্রহ করে Smartclicker24-এর নীতিমালা অনুযায়ী মন্তব্য করুন। সকল মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়
comment url