অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬: ঘরে বসেই নিন দাখিলা

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬-২৭ সালের নতুন নিয়মে এখন আরও সহজ ও ঝামেলাহীন করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পোর্টাল ব্যবহার করে আপনি ঘরে বসেই যেকোনো জায়গার ভূমি উন্নয়ন কর বা ই-খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন।
ছবি
কোনো প্রকার দালালের সাহায্য ছাড়াই পেমেন্ট সফল হওয়ার পর অনলাইন থেকে অফিশিয়াল দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহের উপায়ও এখানে জানতে পারবেন। সঠিকভাবে খাজনা দিয়ে আপনার মূল্যবান জমি ও ভূমির মালিকানা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনগতভাবে ঝুঁকিমুক্ত রাখুন।

সূচিপত্রঃ অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬: ঘরে বসেই নিন দাখিলা

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

বাংলাদেশ সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর আইন- ২০২৩ অনুযায়ী দেশের সীমানার মধ্যে থাকা যেকোনো স্থাবর সম্পত্তি যা স্থানান্তর যোগ্য নয় যেমন-কৃষি জমি, আবাসিক প্লট, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা শিল্পাঞ্চল এর মালিককে প্রতি বছর সরকারকে একটি নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়। যা মূলত ভূমি উন্নয়ন কর বা সাধারণ ভাষায় জমির খাজনা নামে পরিচিত যা পরিশোধ করা ভূমির মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক।

ভূমিসেবায় দুর্নীতি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে ভূমি উন্নয়ন কর আইন-২০২৩ এর ধারা-০৮ অনুযায়ী ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ ভূমির খাজনা প্রদান পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনলাইন ও স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অনলাইনে জমির বকেয়া খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা যায়।

প্রথমবার খাজনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি

নতুন নিয়মে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬-২৭ অনুযায়ী প্রথমবার খাজনা পরিশোধের পূর্বে পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। নতুবা সময় নষ্ট হতে পারে। তাই পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে নিচে উল্লেখিত কাগজপত্র ও তথ্যাদি প্রস্তুত করে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা শুরু করুন এবং স্টেপ বাই স্টেপ আমার গাইডলাইন মেনে আপনি একবারেই কর পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। 
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): জমির মূল মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং এনআইডি কার্ড অনুসারে সঠিক জন্মতারিখ।
  • সচল মোবাইল নম্বর:  জমির মূল মালিকের এনআইডি দিয়ে  রেজিষ্ট্রেশন করা সচল সিম কার্ড। এই মোবাইল নম্বরে  ওটিপি কোড আসবে যা খাজনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজন হবে। 
  • স্মার্টফোন অথবা কম্পিটার: ইন্টারনেট কানেকশনসহ একটি স্মার্টফোন অথবা কম্পিটার প্রয়োজন হবে। 
  • জমির দলিলঃ জমির অবস্থান এবং  অবস্থান অনুযায়ী-বিভাগ,জেলা, উপজেলা, মৌজার তথ্য, খতিয়ান নং ও হোল্ডিং নং, দাগ নম্বর ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। তাই জমির দলিল হাতের কাছে রাখতে হবে। 
  • সর্বশেষ খতিয়ান বা পর্চা: জমির  সর্বশেষ রেকর্ড যেমন- খতিয়ান (বিএস, আরএস, সিএস) অথবা ই-নামজারি (খারিজ) খতিয়ানের কপি থাকতে হবে।
  • হোল্ডিং নম্বর: জমির সর্বশেষ খাজনা আদায়ের রসিদ বা দাখিলার কপিতে  হোল্ডিং নম্বর ও মৌজা উল্লেখ থাকে তাই এটি কাছে থাকলে হোল্ডিং নম্বর দিয়ে সহজেই অনলাইনে খাজনা পরিশোধের কর্যক্রম করা যাবে। 

অনলাইনে জমির খাজনা  বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ধাপসমূহ

অনলাইন খাজনা পরিশোধের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে ৩টি ধাপে ভাগ করা যায়। প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন ও প্রোফাইল আপডেট করতে হবে। এরপর হোল্ডিং বা খতিয়ান সংযোজন করে   অবশেষে অনলাইন পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিম্নে উক্ত ধাপসমূহ তিনটি প্রধান শিরোনামে স্টেপ বাই স্টেপ বর্ণনা করা হলো।

ধাপ ১ঃ প্রোফাইল আপডেট ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

অনলাইনে প্রথমবার খাজনা দেয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে রেজিস্টেশন করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। রেজিস্টেশন করার প্রক্রিয়া হলো-
প্রথমে যে কোন ব্রাউজার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টাল https://land.gov.bd এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোম পেজের মেনুতে থাকা লগইন অপশনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন অপশনে যান অথবা হোমপেজের “ভূমি উন্নয়ন কর” এ ক্লিক করুন এরপর ”নিবন্ধন করুন” এ ক্লিক করতে হবে।
ছবি
ছবি
এবার ”নাগরিক ও সংস্থা” অপশন আসবে। এখানে ”নাগরিক” সিলেক্ট করতে হবে।
এরপর ভূমি মালিকের নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে এবং মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে “সাবমিট করুন” এ ক্লিক করতে হবে।
ছবি
আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ৬ ডিজিটের ওটিপি (OTP) কোড আসবে। ওটিপি কোডটি স্ক্রিনে লিখে “সাবমিট করুন” এ ক্লিক করে আপনার একাউন্ট তৈরি করতে হবে।
ছবি
এভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে উক্ত অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য কমপক্ষে ৮ ডিজিটের পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।
ছবি
পরবর্তীতে এই মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার আইডিতে লগইন করতে হবে।

প্রোফাইল আপডেট করুন এবং হোল্ডিং যুক্ত করুন
মোবাইল নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আইডিতে লগইন করতে হবে।
এরপর আপনার ড্যাশবোর্ডে থাকা নামের উপর কারসোর রেখে ”আমার প্রোফাইল” এ ক্লিক করতে হবে
ছবি
প্রোফাইল আপডেট করুন এ ক্লিক করতে হবে।
ছবি
প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে ”হাল নাগাদ করুন” এ ক্লিক করতে হবে তাহলে প্রোফাইল আপডেট হয়ে যাবে।

ধাপ ২ঃ জমির তথ্য যুক্ত করার প্রক্রিয়া

উপরে উল্লেখিত প্রক্রিয়ায় প্রোফাইল হালনাগাদ করার পরে ড্যাশবোর্ড থেকে ভূমি উন্নয়ন করে ক্লিক করার পর খতিয়ান ট্যাবে ক্লিক করুন। এরপর "নতুন খতিয়ান তথ্য প্রদান করতে ক্লিক করুন" এই ট্যাবে ক্লিক করুন।
ছবি
এই অবস্থায় আপনার সামনে জমির তথ্যাবলী প্রদান করার জন্য কয়েকটি বক্স আসবে যেগুলো খুব ভালোভাবে ‍পূরণ করে দিতে হবে। বক্সগুলোর ডানে থাকা অ্যারো বাটন গুলোতে ক্লিক করে জমি সংক্রান্ত তথ্যাবলী যেমন- বিভাগ, জেলা, উপজেলা (সার্কেল), মৌজা (জেএল নম্বরসহ), জরীপের ধরণ (যেমন: আরএস, বিএস, সিএস বা নামজারি খতিয়ান), খতিয়ান নম্বর, হোল্ডিং নম্বর প্রদান করুন। খতিয়ান নম্বর যদি জানা না থাকে তবে হোল্ডিং নম্বর ইনপুট করুন।
ছবি
এরপর খতিয়ানের স্ক্যান কপি বা ছবি (PDF বা JPEG ফরম্যাটে) আপলোড করুন।

মালিকানার ধরণ সিলেক্ট করে "সংরক্ষণ করুন" বাটনে ক্লিক করুন। এভাবে জমির তথ্য যুক্ত করতে হবে।

ধাপ ৩ঃ খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পেমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬ এর উপরোক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সফলভাবে জমির তথ্যাবলি যুক্ত করার পরে কয়েকদিন আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তহশিলদার কর্তৃক হোল্ডিং অনুমোদিত হলে আপনার রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইল নাম্বারে একটি এসএমএস এর মাধ্যমে আপনাকে কনফার্ম করা হবে। এভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরে অনলাইনে খাজনা বা কর পরিশোধ করা যাবে। এজন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে--
  • আইডিতে লগইন করতে হবে।
  • ড্যাশবোর্ডে থাকা ভূমি উন্নয়ন কর এ ক্লিক করতে হবে।
  • হোল্ডিং তলিকায় ক্লিক করতে হবে।
  • হোল্ডিংয় তালিকার পদক্ষেপ এর নীচে চোখের মতো দেখতে বা আই আইকনে ক্লিক করতে হবে।
ছবি
  • এরপর “পেমেন্ট (এলএসজি)" বাটনে ক্লিক করতে হবে।
  • ই- পেমেন্ট করুন এ  ক্লিক করতে হবে।
ছবি
  • OTC এ চালান অথবা এ চালান সিলেক্ট করে পরবর্তীতে ক্লিক করে OK করতে হবে।
  • এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট, , উপায় এবং কার্ড পেমেন্ট করতে চান তাহলে চালান সিলেক্ট করতে হবে।
  • এরপর পপ-আপ যাচাই করুন এ ক্লিক করতে হবে
  • এরপর আপনার পছন্দমত/ সুবিধাজনক পেমেন্ট মেথড বেছে নিতে হবে। অর্থপরিশোধের জন্য ব্যাংক নির্বাচন বা মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড পেমেন্ট সিলেক্ট করে SAVE @ CONTINUE এ ক্লিক করতে হবে।
ছবি
  • আমি বিকাশ সিলেক্ট করে SAVE @ CONTINUE এ  ক্লিক করলাম। এর ফলে বিকাশের ট্যাব ওপেন হলে- Proceed করে, বিকাশ নম্বর এবং OTP ও পাসওয়ার্ড দিয়ে Confirm এ  ক্লিক করলাম।
সফলভাবে পেমেন্ট দেওয়া সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাজনা পরিশোধের রশিদ চলে আসবে। এটি প্রিন্ট করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই ভাবে ব্যাংক  কার্ডের তথ্য দিয়ে, ওটিপি (OTP) ও পিন (PIN) নম্বর দিয়ে পেমেন্ট করা যায়। 
ছবি
সতর্কতা: জমির তথ্য সাবমিট করার পর তথ্যগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহশিলদার) আইডিতে যাবে। তিনি সকল তথ্য,জমির খতিয়ান এবং জমি সংক্রান্ত পূর্বের সকল রেকর্ড যাচাই করে হোল্ডিংটি "অনুমোদন " করবেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ২ থেকে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে। হোল্ডিং অনুমোদিত হওয়ার পর আপনার মোবাইলে এসএমএস আসবে এবং ড্যাশবোর্ডে বকেয়া খাজনার পরিমাণ দেখা যাবে।

ই-দাখিলা বা খাজনা পরিশোধের অনলাইন রসিদ ডাউনলোড প্রক্রিয়া

সাধারণত পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই স্ক্রিনে কিউআর কোড সম্বলিত ই-দাখিলা বা খাজনা পরিশোধের অনলাইন রসিদ চলে আসে। পিডিএফ (PDF) আকারে এটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ভবিষ্যতের জন্য ফাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন। এই ডিজিটাল দাখিলাটিই খাজনা পরিশোধের শতভাগ আইনি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। 
ছবি
পরবর্তীতে জমি বিক্রয় বা নামজারির সময় এটা প্রয়োজন হবে। তবে যদি তাৎক্ষণাৎ স্বয়ংক্রিয় ই-দাখিলা না পেয়ে থাকেন তাহলে - দাখিলা ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। দাখিলা ট্যাবে ক্লিক করার পরে দেখতে পাবেন পদক্ষেপ এর নীচে বিবরণ এ ক্লিক করবেন। তাহলে ই-দাখিলা টি পাওয়া যাবে। এবার এটি পূর্বের ন্যায় প্রিন্ট বা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যাবে।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার ডিজিটলি মাধ্যম সমুহ

অনলাইনে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সারাদেশের ভূমি মালিকগণ ঘরে বসে অনলাইনে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমির খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। আপনি আপনার  হাতে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় কিংবা যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ও ই-চালানের মাধ্যমে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন। 
আদায়কৃত খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের নির্দিষ্ট কোডে জমা করা হয়। প্রতি বছর আর্থিক সাল অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ প্রতি বছর ১ জুলাই হতে ৩০ জুন এর মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে দিনের যে কোন সময় অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করা যায়। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা না হলে তা বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর হিসাবে বিবেচিত হবে।

নিজের কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যতীত খাজনা দেয়ার পদ্ধতি

কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা না থাকলে বা নিজে না পারলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য দুটি সহজ উপায়ে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন। যথা-
  • ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC): আপনার জমি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও NID-র কপি নিয়ে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ডিজিটাল সেন্টারে যান। সেখানে দায়িত্বরত উদ্যোক্তাকে আপনার খতিয়ান ও এনআইডির কপি এবং সরকার নির্ধারিত ফি দিলে তারা অনলাইনে আপনার খাজনা জমা দিয়ে দিবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ই-দাখিলার প্রিন্ট কপি বুঝি নিতে হবে।
  • কম্পিউটারের দোকান: আপনার পার্শ্ববর্তী যেকোনো বিশ্বস্ত কম্পিউটারের দোকানে গিয়েও আপনি জমির খতিয়ান এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন। এবং ই-দাখিলা প্রিন্ট করতে পারবেন। 
  • ভূমি অফিসে যোগাযোগ: ভূমি উন্নয়ন কর আইন- ২০২৩ এর ধারা ৮ (২) অনুযায়ী  ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সারা দেশে কর পরিশোধের প্রবর্তন না হওয়া পর্যন্ত, জনগণের সুবিধার্থে ইলেকট্রনিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতে যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাবে। 
এক্ষেত্রে ভূমি মালিককে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নিকট  জমির বকেয়া  কর হিসাব করে ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল রসিদের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করতে হবে।  লেনদেন শেষে অবশ্যই দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহ করুন এবং তা যত্ন করে রাখুন। এটি জমির মালিকানার প্রমাণক হিসেবে কাজ করে।

২০২৬-২৭ আর্থিক সালে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার হার 

সাধারণত  ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতি বছর জুলাই মাসের মধ্যে তার এখতিয়ারাধীন এলাকাসমূহ পরিদর্শন করে জমির ব্যবহার ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খাজনার হার নির্ধারণ করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূমির ব্যবহার ভিত্তিক কর নির্ধারণ তালিকা যাচাই করে অনুমোদন করেন। অনুমোদিত এই তালিকা অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়। কিছু ব্যতিক্রম হলো-
জমির ধরন জমির পরিমাণ ও বার্ষিক খাজনার পরিমাণ (টাকা)
কৃষি জমি (ব্যক্তিমালিকানাধীন) ২৫ বিঘা (৮.২৫ একর) পর্যন্ত খাজনা মওকুফ তবে প্রতি হোল্ডিংয়ের জন্য বার্ষিক ১০ টাকা দাখিলা ফি দিতে হয়। ২৫ বিঘার বেশি সম্পূর্ণ জমির ওপর ২ টাকা/ শতাংশ
আবাসিক জমি (শহরাঞ্চল/গ্রাম রাজউক, সিডিএ বা সিটি কর্পোরেশন এলাকার আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের জন্য এলাকাভেদে প্রতি শতাংশে নির্দিষ্ট হারে (যেমন ৫ টাকা থেকে শুরু করে অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়)।
বাণিজ্যিক ও শিল্প জমি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ফ্যাক্টরি বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত জমির জন্য করের হার সবচেয়ে বেশি এবং এরিয়া ও গুরুত্ব অনুযায়ী তা নির্ধারিত হয়।

অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধের সুবিধা 

পূর্বের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিসে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কখনও কখনও দিনের পর দিন ঘুরে ঘুরে জমির খাজনা পরিশোধ করতে হতো। খাজনা পরিশোধের পর রশিদ পেতে আবারও দূর্ভোগ পোহাতে হতো। এই ব্যবস্থায় দালালচক্র এবং অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি ফি-র নামে ঘুষ দৌরাত্বে জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বর্তমানে অনলাইনে খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুযোগ তৈরী হওয়ায় ভূমি মালিকগন নিচের সুবিধা গুলো পেয়ে থাকেন--
  • সময় ও অর্থ সাশ্রয়:  ঘরে বসে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে নিরাপদে কর পরিশোধ করা যায় যা সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ট্রানজেকশন অর্থাৎ এক্ষেত্রে নগদ টাকা লেনদেনের প্রয়োজন হয় না। এতে  বাড়তি ফি বা ঘুষ প্রদান করার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া অফিসে যাতায়াতের খরচ হয় না এবং লাইনে দাঁড়াতে হয় না তাই অতিরিক্ত সময়ও লাগে না।  
  • সুবিধা জনক সময়ে খাজনা পরিশোধ:  সপ্তাহে ০৭ দিন অফিস ডে কিংবা ছুটির দিন ২৪ ঘন্টার যে কোন সময়ে দেশে কিংবা বিদেশে যে কোন স্থান থেকে ভূমি উন্নয়ন কর কখন পরিশোধ করা যায়।  অর্থাৎ নিজের সুবিধা জনক সময়ে ভূমি মালিকগণ কর পরিশোধ করতে পারেন। 
  • তাৎক্ষনাৎ খাজনা আদায়ের রশিদ প্রাপ্তি:  অনলাইনে খাজনা পরিশোধের সাথে সাথেই  খাজনা পরিশোধের রসিদ বা দাখিলা ডাউনলোড করা যায়। 
  • হালনাগাদ রেকর্ড: প্রতি বছর সময়মতো কর দিলে জমির রেকর্ড হালনাগাদ থাকে তাই অন্যের জালিয়াতির ঝুঁকি কম। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিগত বছরের পেমেন্ট হিস্ট্রি এবং বকেয়া করের পরিমাণ সঠিকভাবে ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়।

মতামতঃ অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম চালু হওয়ায় বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি বিপ্লবী এবং যুগান্তকারী পরিবর্তনে এসেছে। আগে যেখানে খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে তহশিল অফিসে বছরের পর বছর হয়রানি ও দালালের খপ্পরে পড়তে হতো, এখন ডিজিটাল সিস্টেমের কারণে সেই ভোগান্তি পুরোপুরি শেষ হয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ঘরে বসে মাত্র কয়েক মিনিটে অফিশিয়াল দাখিলা বা রসিদ হাতে পাওয়ার এই সুবিধাটি প্রত্যেক নাগরিকের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যেন এই প্রযুক্তি সহজে ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য সিস্টেমটিকে আরও ইউজার-ফ্রেন্ডলি করা এবং এর ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে Smartclicker24-এর নীতিমালা অনুযায়ী মন্তব্য করুন। সকল মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়

comment url